গর্ভাবস্থায় কি খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়

গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়া জরুরী। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন( দই, দু্‌ধ, ডিম )আয়রন ও ফলিক এসিডের জন্য সবুজ শাকসবজি ও মৌসুমী ফল এবং পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর পানি (জুস) রাখা উচিত। সুস্থ বাচ্চার জন্য মাছ , মাংস ও বাদাম খুবই উপকারী।


 গর্ভাবস্থায় কাঁচা বাধা সিদ্ধ ডিম ও মাংস পাদর যুক্ত মাছ কাঁচা খাবার এবং অপরিশোধিত হলের রস এড়িয়ে চলতে হবে এছাড়াও অ্যালকোহল এবং কাঁচা পেঁপে বা আনারস খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত । 

পেজ সূচিপত্রঃ  গর্ভাবস্থায় কি খেলে উপকার পাওয়া যায়

    গর্ভাবস্থায় শসা খাওয়ার উপকারিতাঃ


     গর্ভাবস্থায় শশা খেলে রক্তের শর্করা মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে হলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ হয় গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা থাকে না আবার ডাইবেটিস ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শসা খেতে হবে গর্ভাবস্থায় শশা খেলে কষ্ট কাঠিন্য দূর হয় কারণ শসার মধ্যে উচ্চমাত্রায় ফাইবার রয়েছে যার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় গর্ভাবস্থায় অনেকের শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যায় আর শসা খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের ফোলা ভাব দূর হয়। 


    গর্ভাবস্থায় লেবু খেলে কি হয়ঃ


    গর্ভাবস্থায় পরিমিত মাত্রায় লেবু খাওয়া মা ও শিশু উভয়ের জন্যই নিরাপদ এবং অত্যন্ত উপকারী। লেবুর ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, বমি বমি ভাব কমায় এবং আইরন শোষণের সহায়তা করে এটি শরীরকে হাইড্রেট রাখে এবং হজমে সাহায্য কর, তবে অতিরিক্ত লেবু খেলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হতে পারে।

    লেবু হল ভিটামিন এর খুব ভালো একটি উৎস। যা রক্তবাহ গুলোকে শক্তিশালী করে তুলতে সাহায্য করে লেবুর রস পান করলে  রক্তবাহের নমনীয়তা এবং কমলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এছাড়াও এটি  অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ রোদ ও উচ্চ রক্তচাপের মাত্রা হ্রাস করে, লেবুর রস পান করলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। 

    আরও পড়ুন ঃ  

    কলা কি গর্ভাবস্থায় বমি ভাব দূর করেঃ 

    কলা পটাশিয়াম সমৃদ্ধ এবং সহজে হজম হওয়ায় কলা বমি বমি ভাব নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে এবং বমির ফলে হারানো পুষ্টি পূরণ করতে পারে ,শুকনো এবং নরম টোস্ট পেটের এসিড শোষণ করতে এবং বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে, যা গর্ভবতী মহিলাদের জন্য দিন শুরু করার একটি ভালো বিকল্প।

    বিশেষজ্ঞদের মতে কলা বি ভিটামিনে পূর্ণ যা গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিকভাবে বমি রোধ করতে কাজ করে, গর্ভাবস্থায় খাদ্য তালিকায় কলা যোগ করলে তা মর্নিং সিকনেস কমাতে সাহায্য করে। আইরনের মাত্রা কম থাকা গর্ভবতী নারীদের জন্য একটি প্রধান সমস্যা, সেখানেই কলা কাজে আসে কলায় প্রচুর আইরন থাকাই তা শক্তির মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই কলা খাবেন প্রতিদিন।   

    কি খেলে গর্ভের বাচ্চার ওজন বাড়েঃ

     
    গর্ভের শিশুর সঠিক ওজন বৃদ্ধিতে প্রোটিন , ক্যালসিয়াম, ওমেগা -৩, এবং আইরন সমৃদ্ধ সুষম খাবার জরুরী। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ডিম ,দুধ, পনির ,মাছ (বিশেষ করে তৈলাক্ত )মাছ, মাংস,  ডাল বাদাম এবং সবুজ শাকসবজি কেমন পালং শাক ব্রকলি রাখুন । এছাড়া কলা  এবং শুকনো ফল খেলে দ্রুত ওজন বারে। 

    সাধারণত একজন সুস্থ গর্ভবতীর মায়ের ১০ থেকে ১২ কেজি ওজন বাড়লে যথেষ্ট। গর্ব অবস্থায় প্রথম তিন মাসে অনেকের ওজন তেমন বাড়ে না। কারণ ,এ সময় অনেকের বমি ও বমি প্রবণতা থাকে ধীরে ধীরে খাবার বাড়িয়ে ওজন বৃদ্ধি করতে হবে।  

    গর্ভাবস্থায় বচ্চার ত্বক উজ্জল করার খাবারঃ

     
    সকল সাইট্রাস ফলোই সাধারনত একটি ফরসা ত্বকের শিশুর জন্ম দিতে ভূমিকা রাখে, এবং গর্ব অবস্থায় এটি খাওয়া ভালো ফল বলে মনে করা হয়। এটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ যা আমাদের ত্বকের জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান।

    তবে গর্ব অবস্থায় বিশেষ কোন খাবার খেলে বাচ্চা ফর্সা হবে- এমন ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, কারণ শিশুর গায়ের রং সম্পূর্ণ তার বাবা-মায়ের জিনের উপর নির্ভর করে। তবে স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার খেলে শিশুর ত্বক উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যজ্জ্বল হতে পারে। ভিটামিন সি যুক্ত ফল যেমন( কমলা, পেয়ারা), দুধ, বাদাম, ডিম এবং ডাবের পানি বাচ্চার তক ও সামগ্রিক বিকাশের জন্য উপকারী। 

    গর্ভাবস্থায় কোন খাবার এড়িয়ে চলা উচিতঃ


    গর্ভবতী মায়েদের নির্দিষ্ট কিছু খাবার থেকে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে আর তা গর্ভধারণ সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি করতে পারে । কাঁচা পাস্তবায়ন ছাড়া দুধ এবং ওই ধরনের দুধ থেকে তৈরি কমল পনির এগুলো লিস্তেরিয়া নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে ,যা লিষ্টেরিওসিস নামের এক ধরনের রোগ তৈরি করতে পারে। মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার কারণ সেগুলোতে ব্যাকটেরিয়া থাকে ,কাঁচা ও পুরোপুরি রান্না না হওয়া মাংস জাত পণ্য যেমন সসেজ ও কোল্ড কাট ।এগুলোতে টক্সোপ্লাজমা গণ্ডির মতো পরজীবী এবং সালমনিয়া ও লিসতেরিয়ার মতো ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।

    গর্ভাবস্থায় কতটা খাওয়া দরকারঃ 


    প্রথম তিন মাসে আপনার কোন বাড়তি খাবারের দরকার নেই । দ্বিতীয় তিন মাসে প্রতিদিন আপনার ৩৪০ ক্যালোরি বাড়তি দরকার হবে। আর শেষ তিন মাসে আপনার প্রতিদিন অতিরিক্ত ৪৫০ ক্যালোরি দরকার হবে। এই বাড়তি শক্তির জন্য সব সময় স্বাস্থ্যকর হালকা খাবার যেমন বাদাম, দই ও তরতাজা ফলমূল রাখবেন। 

    গর্ভাবস্থায় খাবারের সময়সূচি মেনে চলা এবং দিনে সর্বোচ্চ ছয় থেকে সাতবার ছোট ভাগে খাবার গ্রহণ করা, মায়ের এবং শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য অতিরিক্ত বা অসম্পূর্ণ খাবার শিশুর বিকাশ এবং মায়ের শক্তি প্রভাবিত করতে পারে। সুতরাং খাবারের মান এবং নিয়মিত সময়সূচী বজায় রাখা সব সময় গুরুত্বপূর্ণ । 


    গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসঃ


    প্রতিটি নারীর স্বপ্ন থাকে মা হওয়ার। প্রেগনেন্সি একজন নারীর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এ সময় প্রয়োজন বাড়তি যত্ন এবং সাবধানতা। গর্ব অবস্থায় প্রথম অবস্থা ,গর্ভধারণের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু করে 12 তম সপ্তাহ অর্থাৎ প্রথম তিন মাসকে ধরা হয় হার্ট টাই মিস্টার এই সময়ের প্রতিটি দিনই গুরুত্বপূর্ণ।
    গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস বমি বমি ভাব খাবারের অরুচি সবকিছুতেই গন্ধ লাগা,মাথা ঘুরানো, দুর্বলতা কোষ্ঠকাঠিন্,  প্রসাবে জ্বালাপোড়া ,তলপেটে ব্যথ, বুক জ্বালাপোড়, পেটে গ্যাস, গন্ধ লাগা অরুচি , ইত্যাদি হয়ে থাকে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। 
      


    এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

    পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
    এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
    মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

    অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

    comment url
    Anjuman
    Anjuman
    আমি আমার websiter মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় ইনফরমেশন শেয়ার করে থাকে।