ভূমিকম্প কেন হয় এবং করণীয় কী

 

ভূমিকম্প কেন হয় এবং করণীয় কি,ভূমিকম্প হলো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা যেকোনো সময় ঘটতে পারে। কেন ভূমিকম্প হয় এবং এর পেছনে কি কি কারণ রয়েছে, তা জানা জরুরী। সচেতনতা ও সঠিক প্রস্তুতি জীবন ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক নিয়ম মেনে চলতে হবে। আগে থেকে করণীয় সম্পর্কে জানা থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ভূমিকম্প কেন হয় এবং করণীয় কি-বিস্তারিত জানতে পুরো আর্টিকেলটি পড়ুন।


পেজ সূচিপত্রঃ ভূমিকম্প কেন হয় এমন করনীয় কী


ভূমিকম্প কেন হয় এবং করণীয় কি


ভূমিকম্প কেন হয় এবং করনীয় কি-এ বিষয়ে সবার সচেতন থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর অভ্যন্তরে থাকা টেকটোনিক প্লেটগুলো সব সময় ধীরে ধীরে নড়াচাড়া করে। কখনো এসব প্লেট একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ করে বা দূরে সরে যায়। এর ফলে ভূগর্ভে প্রচুর শক্তি জমা হতে থাকে। জমে থাকা শক্তি হঠাৎ যুক্ত হলে পৃথিবীর মাটি কেঁপে ওঠে। এই ঘটনাকে ভূমিকম্প বলা হয়। অনেক সময় আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের কারণেও ভূমিকম্প হতে পারে। তাই ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। 

ভূমিকম্প হলে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। ঘরের মধ্যে থাকলে জানালা,কাচ ও ভারী আসবাবপত্র থেকে দূরে থাকতে হবে। সম্ভব হলে শক্ত টেবিল বা নিরাপদ স্থানের নিচে আশ্রয় নেওয়া উচিত। বাইরে থাকলে ভবন, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে সরে যেতে হবে। খোলা ও নিরাপদ স্থানে অবস্থান করায় সবচেয়ে ভালো। লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি ব্যবহার করতে হবে। ভূমিকম্প থেমে যাওয়ার পর ও সতর্ক থাকতে হবে। ভূমিকম্প কেন হয় এবং করণীয় কি এ সম্পর্কে আগে থেকে জানলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।

মূল ভূমিকম্প ও আফটারশখের মধ্যে পার্থক্য কি


মূল ভূমিকম্প ও আফটারশখের মধ্যে পার্থক্য কি-এটি বুঝতে হলে প্রথমে মূল ভূমিকম্প সম্পর্কে জানতে হয়। কোন এলাকায় ভূগর্ভের ফল্টে শক্তি হঠাৎ মুক্ত হয়ে যে প্রধান কম্পন সৃষ্টি হয়, তাকে মূল ভূমিকম্প বলা হয়। এটি সাধারণত ওই ভূমিকম্প ধারার সবচেয়ে বড় কম্পন। মূল ভূমিকম্পের সময় মাটির কাঁপনি বেশি অনুভূত হতে পারে এবং এর প্রভাব বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই প্রধান কম্পনের পর ভূগর্ভের চাপ ও অবস্থানের পরিবর্তন ঘটতে থাকে।

অন্যদিকে, মূল ভূমিকম্পের পরে একই অঞ্চলে যে পরবর্তী কম্পন গুলো হয়, সেগুলোকে আফটার শখ বলা হয়। আফটার শখ সাধারণত মূল ভূমিকম্পের তুলনায় কম শক্তিশালী হলেও কখনো কখনো বেশ জোরালো হতে পারে। মূল ভূমিকম্পের পর কয়েক মিনিট, ঘন্টা, দিন বা সপ্তাহ পর্যন্ত আফটার শখ  দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ, মূল ভূমিকম্প হল প্রধান কম্পন এবং আফটার শখ হল সেই প্রধান কম্পন এর পর সংঘটিত পরবর্তী কম্পন। এটাই মূল ভূমিকম্প ও আফটার শখ এর মধ্যে প্রধান পার্থক্য।

কিভাবে পৃথিবীর অভ্যন্তরে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়


কিভাবে পৃথিবীর অভ্যন্তরে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়-এর মূল কারণ হলো পৃথিবীর ভূত্বকের নিচে থাকা টেকটোনিক প্লেটের নাড়াচাড়া। এই প্লেটগুলো ধীরে ধীরে একে অপরের দিকে এগিয়ে যায়, দূরে সরে যায় অথবা পাশাপাশি ঘষা খেতে থাকে। চলাচলের সময় শিলাস্তরের মধ্যে প্রচন্ড চাপ জমা হতে থাকে। একসময় জমে থাকা চাপ শিলাস্তর সহ করতে না পারলে হঠাৎ ভেঙে বা সরে যায়। তখন ভূগর্ভে জমে থাকা বিলুপ শক্তি তরঙ্গ আকারে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পৃথিবীর পৃষ্ট কেঁপে ওঠে।

পৃথিবীর অভ্যন্তরে এই শক্তি সাধারনত ফল্ট বা ভূত্বকের দুর্বল অংশের আসপাশে জমা হয়। টেকটোনিক প্লেটের নাড়াচাড়ার কারণে শিলাস্তরের অবস্থান পরিবর্তিত হলে ভূমিকম্পের উৎপত্তি ঘটে। ভূগর্ভের যে স্থান থেকে কম্পনের শুরু হয়, তাকে ভূমিকম্পের কেন্দ্র বা উৎপত্তিস্থল বলা হয়। সেখান থেকে সৃষ্ট কম্পন তরঙ্গ মাটির বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে পৃথিবীর উপরের অংশে পৌঁছায়। এই তরঙ্গের কারণেই মানুষ মাটির কাঁপুনি অনুভব করে এবং পৃথিবীর অভ্যন্তরে সৃষ্ট ভূমিকম্পের প্রভাব চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

ভূমিকম্প হওয়ার পেছনে কি কারণ রয়েছে


ভূমিকম্প হওয়ার পেছনে কি কারন রয়েছে-এর প্রধান কারণ হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরে থাকা টেকটোনিক প্লেটগুলোর নড়াচড়া। পৃথিবীর ভূত্বক কয়েকটি বড় ও ছোট প্লেটে বিভক্ত, যা ধীরে ধীরে চলতে থাকে। এই প্লেটগুলো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেলে, দূরে সরে গেলে বা একটি প্লেট অন্যটির নিচে চলে গেলে ভূগর্ভে প্রচুর শক্তি জমা হয়। জমে থাকা এই শক্তি হঠাৎ মুক্তি পেলে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।


এছাড়াও আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত, ভূগর্ভের শিলাস্তরের পরিবর্তন এবং ভূত্বকের ফাটল বারবার চাপ সৃষ্টি হওয়ার কারণেও ভূমিকম্প হতে পারে। তবে অধিকাংশ শক্তিশালী ভূমিকম্পের মূল কারণ টেকটোনিক প্লেটের চলাচল ও তাদের মধ্যে জমে থাকা চাপের আকস্মিক মুক্তি। তাই ভূমিকম্প হওয়ার পেছনে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন ও ভূত্বকের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

ভূমিকম্পের ফলে কি কি ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়


ভূমিকম্পের ফলে কি কি ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়, এর মধ্যে অন্যতম হলো ঘরবাড়ি, ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা ধসে পড়া। শক্তিশালী ভূমিকম্পে মানুষের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। রাস্তা, সেতু ও রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ও মূল্যবান সম্পদ হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্কুল, হাসপাতাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ক্ষতির মুখে পড়ে। ধ্বংসস্ত স্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়তে পারে। ফলে ভূমিকম্পের জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।

ভূমিকম্পের ফলে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন সেবা বন্ধ হতে পারে। গ্যাস লাইন বা বৈদ্যুতিক সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিকম্পের কারণে ভূমিধস সৃষ্টি হয়ে ঘরবাড়ি ও রাস্তার ক্ষতি হয়। সমুদ্রের নিচে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে সুনামি সৃষ্টি হতে পারে। সুনামির কারণে উপকূলীয় এলাকায় ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এভাবে ভূমিকম্পের প্রভাবে বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি হয়। 

ভূমিকম্পের সময় ঘরের ভিতর থাকলে করণীয়


ভূমিকম্পের সময় ঘরের ভিতর থাকলে করণীয় হল প্রথমে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকা এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেওয়া। জানালা, কাঁচের দরজা, আলমারি ও ভারী আসবাবপত্র থেকে দূরে সরে যেতে হবে, কারণ কম্পনের সময় এসব জিনিস পড়ে গিয়ে আঘাত করতে পারে। সম্ভব হলে মজবুত টেবিলের নিচে আশ্রয় নিয়ে মাথা ও ঘাড় দুই হাত দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। ভূমিকম্প চলাকালীন ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য দৌড়াদৌড়ি করা বা লিট ব্যবহার করা উচিত নয়।

ভূমিকম্পের সময় ঘরের ভিতর থাকলে করণীয় হিসেবে কম্পন চলার সময় দরজা, জানালা বা বারান্দার কাছে না থেকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে হবে। ঘরের ভিতরে থাকা শিশু ও বয়স্কদেরও নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে এবং সবাইকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিতে হবে। ভূমিকম্পের কম্পন থেমে যাওয়ার পরও সতর্ক থাকতে হবে, কারণ পরবর্তী কম্পন হতে পারে। পরিস্থিতি নিরাপদ মনে হলে ধীরে ও সতর্কভাবে ঘর থেকে বের হয়ে খোলা নিরাপদ স্থানে যেতে হবে। 


ভূমিকম্পের মাত্রা কিভাবে পরিমাপ করা হয়


ভূমিকম্পের মাত্রা কিভাবে পরিমাপ করা হয় তা জানতে ভূমিকম্পের সময় মাটির কম্পন বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে রেকর্ড করা হয়। এই যন্ত্র ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হওয়া ভূকম্পন তরঙ্গ শনাক্ত করে এবং তার গতিবিধি সংরক্ষণ করে। পরে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে ভূমিকম্পের উৎস, কম্পনের শক্তি এবং মাত্রা সম্পর্কে হিসাব করা হয়। ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ধারণের জন্য বর্তমানে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে কতটা শক্তি নির্গত হয়েছে সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়। ফলে শুধু মানুষের অনুভূতির উপর নির্ভর না করে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।

ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপের সময় বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া ভূকম্পনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। মাটির কম্পনের তরঙ্গ কতটা শক্তিশালী এবং ভূগর্ভে কতটা শক্তি মুক্ত হয়েছে, সেসব তথ্য হিসাবের মধ্যে নেওয়া হয়। ভূমিকম্পের মাত্রা প্রকাশের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিমাপ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে বড় ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ধারণে উৎস থেকে নির্গত শক্তির উপর ভিত্তি করে আধুনিক পদ্ধতি বেশি ব্যবহার করা হয়। মাত্রা বেশি হলে সাধারণ ভূমিকম্পের উৎসে বেশি শক্তি মুক্ত হয়েছে বলে বোঝা যায়। এভাবেই যন্ত্রে রেকর্ড করা তথ্য ও বৈজ্ঞানিক হিসাবের মাধ্যমে ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ভরযোগ্য ভাবে পরিমাপ করা হয়। 

ভূমিকম্পের সময় যেসব কাজ করা উচিত নয়


ভূমিকম্পের সময় যেসব কাজ করা উচিত নয়, সেগুলো সম্পর্কে আগে থেকেই জানা জরুরী। ভূমিকম্প শুরু হলে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াদৌড়ি করা বা হুড়োহুড়ি করা উচিত নয়। লিফট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং জানালা, বারান্দা বা ভারী আসবাবের কাছাকাছি দাঁড়ানো নিরাপদ নয়। শান্ত থেকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করতে হবে।

এছাড়াও ভূমিকম্পের সময় যেসব কাজ করা উচিত নয় তার মধ্যে বিদ্যুৎ বা গ্যাসের সুইচ কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ। কম্পন চলাকালে ভবন থেকে তাড়াহুড়ো করে বের হওয়ার চেষ্টা বিপদজনক হতে পারে। বাইরে থাকলে ভবন বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছ থেকে দূরে থাকতে হবে। সঠিক সতর্কতা মেনে চললে ভূমিকম্পের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

ভূমিকম্পের পরে কি কি করণীয়


ভূমিকম্পের পরে কি কি করণীয় তা জানা থাকলে পরবর্তী দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কমানো যায়। প্রথমে নিজেরও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আহতদের খোঁজ নিতে হবে। কেউ আহত হলে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, দেয়াল, ভাঙ্গা কাচ ও ছেড়া বৈদ্যুতিক তার থেকে দূরে থাকতে হবে। গ্যাসের গন্ধ পেলে আগুন বা বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার করা যাবে না। প্রয়োজনে নিরাপদ ভাবে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করতে হবে। আফটারশকের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রবেশ করা উচিত নয়।

এছাড়া ভূমিকম্পের পরে কি কি করণীয় এর মধ্যে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় পানি, খাবার ওষুধ সঙ্গে রাখতে হবে এবং জরুরী প্রয়োজনে উদ্ধারকারী সংস্থার সহায়তা নিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। ধ্বংস স্তুপ বা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে অপ্রয়োজনীয় ভাবে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আফটার শক হলে দ্রুত আবার নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতা বজায় রাখা জরুরী।

শেষ কথাঃ ভূমিকম্প কেন হয় এবং করনীয় কি


ভূমিকম্প মূলত ভূগর্ভের টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে হয়। ভূমিকম্পের মাত্রা ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরী। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। ঘরের ভিতর থাকলে মাথা ও শরীর সুরক্ষিত রাখতে হবে। জানালা, কাজ ও ভারী আসবাবপত্র থেকে দূরে থাকতে হবে। ভূমিকম্পের সময় লিফট ব্যবহার করা উচিত নয়। ভূমিকম্পের পরে আহতদের সহায়তা করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবন এড়িয়ে চলতে হবে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও ছেঁড়া তারের ঝুঁকি থেকে সতর্ক থাকতে হবে। আফটারশকের আশঙ্কায় পরবর্তী সময়েও সর্তকতা বজায় রাখতে হবে। সঠিক প্রস্তুতি ও সচেতনতার মাধ্যমে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এই পোস্টটি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে বা যদি কোন উপকার পেয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আপনাদের যদি কোন মতামত বা প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্টে জানান। আপনাদের মূল্যবান মতামত বা কমেন্ট আমাদের আরো নতুন কনটেন্ট লিখতে আগ্রহী করে তোলে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বর্ষা এ টু জেট ডট কমের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Anjuman
Anjuman
আমি আমার websiter মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় ইনফরমেশন শেয়ার করে থাকে।